
চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি:
*চট্রগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড থানার চাঞ্চল্যকর যৌতুকের জন্য ঘাতক স্বামী কর্তৃক স্ত্রী ক্লুলেস হত্যা মামলার এজাহানামীয় প্রধান আসামি শিমুল শীলসহ তার ০৩ জন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি-৭, চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড থানা পুলিশ এর যৌথ আভিযানিক দল।*
১। গত ৯ অক্টোবর ২০২৬ইং শুক্রবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড মডেল থানাধীন ২নং বারৈয়াঢালা ইউপির ৯নং ওয়ার্ডস্থ টেরিয়াইল স্কুলের পেছনে জনৈক মানু মিয়া চৌধুরীর বাড়ির পাশে জমির আইলের উপর একটি অজ্ঞাতনামা এক নারীর লাশ দুটি হাত সামনের দিকে কাপড়ে শক্ত করে বাঁধা এবং গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। প্রাথমিকভাবে লাশটি অজ্ঞাতনামা থাকলেও পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে নিহতের পরিবার তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করে। নিহতের নাম চন্দনা শীল (২২)। তিনি চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম সৈয়দপুর এলাকার তেজেন্দ্র দাশ এর মেয়ে। নিহত ভিকটিম প্রায় এক বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড থানা বড় কুমিরা, জেলে পাড়ার পূর্ব পাশে, হিন্দু পাড়া গ্রামের দিলীপ শীল এর ছেলে শিমুল শীল এর সঙ্গে বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই চন্দনার স্বামী ও তাঁর পরিবার যৌতুকের দাবিতে ভিকটিমের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। বিবাহের কিছুদিন পর হতেই ভিকটিমের স্বামী ও তাঁর পরিবার যৌতুক হিসেবে ৪ লক্ষ টাকা দাবী করে এবং দাবীকৃত টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। এমনকি বিবাদীদ্বয় ভিকটিমকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করতে থাকে। স্বামীর যৌতুকের টাকার চাপ সহ্য করতে না পেরে ভিকটিম চন্দনা স্থানীয় একটি কারখানায় শ্রমিকের কাজও শুরু করেছিলেন। নিহত হওয়ার আগের দিনও ভিকটিম নির্যাতনের শিকার হয়ে বাবার বাড়িতে চলে এসেছিলেন এবং যৌতুকের টাকার জন্য কান্নাকাটি করেছিলেন। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আশ্বস্ত করে আবার স্বামীর বাড়িতে ফেরত পাঠান। ঘটনার দিন গত ০৯ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিঃ অনুমান ১২:৩০ ঘটিকার সময় চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড মডেল থানাধীন ২নং বারৈয়াঢালা ইউপিস্থ টেরিয়াইল বাজার এলাকায় বিবাদীদ্বয় উত্তেজিত হয়ে ভিকটিমের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। তখন বিবাদীদ্বয়সহ অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা পরস্পর যোগসাজসে ভিকটিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এর প্রেক্ষিতে ভিকটিমকে ঘটনাস্থল সীতাকুন্ড মডেল থানাধীন ২নং বারৈয়াঢালা ইউপির ৯নং ওয়ার্ডস্থ টেরিয়াইল স্কুলের পেছনে মানু মিয়া চৌধুরীর বাড়ির পাশে জমির আইলের উপর নিয়ে এসে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ও পরস্পর যোগসাজসে ভিকটিমের পরিহিত ওড়না দিয়ে তার দুই হাত বুকের উপর বেঁধে ফেলে এবং ওড়নার বাকী অংশ দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর বিবাদীগণ ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়। উক্ত ঘটনার এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হলে ব্যাপক আলোচিত হয়।
২। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে ০৪ জনকে এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩ জনকে আসামি করে চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং-২৩, তারিখ-০৯/১০/২০২৬খ্রিঃ, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড, ১৮৬০।
৩। এরই ধারাবাহিকতায় আসামি গ্রেফতারের জন্য এসআরবি-৭, চট্টগ্রাম উদ্ধারকৃত অজ্ঞাতনামা মহিলার মৃতের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য ছায়া তদন্ত ও নজরদারী অব্যাহত রাখেন। নজরদারীর এক পর্যায়ে এসআরবি-৭, চট্টগ্রাম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, সূত্রে বর্নিত মামলার এজাহারনামীয় পলাতক অভিযুক্তগণ চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড থানা এলাকায় আত্নগোপনে অবস্থান করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ০৯ অক্টোবর ২০২৬ইং তারিখ আনুমানিক ২২০০ ঘটিকায় এসআরবি-৭, চট্টগ্রাম ও সীতাকুন্ড থানা পুলিশ এর যৌথ আভিযানিক দল চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড থানাধীন বড় দরোগার হাট কুমিরা হাইওয়ে থানার সামনে হতে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামী ঘাতক স্বামী ১। শিমুল শীল (২৪), পিতা-দিলীপ শীল, সাং-বড় কুমিরা, থানা-সীতাকুন্ড, জেলা-চট্টগ্রাম’কে আটক করতে সক্ষম হয়। ধৃত আসামি শিমুল শীলের দেয়া তথ্যমতে দ্রুততম সময়ে অভিযান পরিচালনা করে একই তারিখ রাত ২২.৪০ ঘটিকায় চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড থানাধীন টেরিয়াল বাজার লাকি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে হতে উক্ত হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ২নং আসামি ২। পীযুষ শীল প্রকাশ প্রিতম (২৩), পিতা-দিলীপ শীল, সাং-বড় কুমিরা, থানা-সীতাকুন্ড, জেলা-চট্টগ্রাম’কে গ্রেফতার করা হয়। পর্বতীতে ধৃত আসামীদ্বয়ের দেয়া তথ্য মতে অভিযান পরিচালনা করে একই তারিখ রাত ২৩.২৫ ঘটিকায় উক্ত চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি ৩। নজরুল ইসলাম (৩৮), পিতা-রুহুল আমিন, সাং-মান্দারীটোলা, বারবকুন্ড, থানা-সীতাকুন্ড জেলা-চট্টগ্রাম এবং অদ্য ১০ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিঃ তারিখ রাত ০০.১৫ ঘটিকায় চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড থানাধীন ফকিরহাট এলাকায় উক্ত চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি ৪। মোঃ ইলিয়াস (৩৫), পিতা আব্দুর রফিক মনা মিয়া, সাং-বাটেরখীল, বারবকুন্ড, থানা-সীতাকুন্ড, জেলা-চট্টগ্রাম’কে গ্রেফতার করা হয়।
২। গ্রেফতারকৃত আসামি সংক্রান্তে পরর্বতী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে তাদেরকে চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড মডেল থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
Leave a Reply