
বোয়ালখালী প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কালাইয়ারহাট বাদামতল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ‘মাসুদ’ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের অভিযোগ, ওই ব্যক্তি এলাকায় মাদকের একটি সক্রিয় নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছেন। তবে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এখনো তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা না হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
এলাকা সূত্রে জানা যায়, কালাইয়ারহাট বাদামতল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচার সঙ্গে ‘মাসুদ’ নামের ওই ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি বিভিন্ন উৎস থেকে মাদক সংগ্রহ করে বোয়ালখালীর বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সরবরাহ করে থাকেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, পার্বত্য এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে সরফভাটার ‘খল্লাকাটা কামাল’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে মাদক সরবরাহের একটি চক্র পরিচালিত হচ্ছে। এ বিষয়ে ‘খল্লাকাটা কামাল’ নামে পরিচিত ব্যক্তির পরিচয় ও অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য নিয়ে পরবর্তী প্রতিবেদনে অনুসন্ধানী তথ্য তুলে ধরা হবে।
সচেতন মহলের অভিযোগ, মাদকের বিস্তারের কারণে এলাকার উঠতি বয়সী তরুণদের একটি অংশ ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। মাদকাসক্তির কারণে পারিবারিক অশান্তি, সামাজিক অবক্ষয় ও নানা ধরনের অপরাধ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলেও তারা মনে করেন। স্থানীয়দের দাবি, মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করা হলে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।
অন্যদিকে সচেতন নাগরিকরা বলছেন, কোনো ব্যক্তি মাদক ব্যবসা বা মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার পরিচয় কিংবা সামাজিক অবস্থান বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ ব্যাপারে স্থানীয়দের প্রশ্ন—মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান চলার পরও কালাইয়ারহাট বাদামতল এলাকায় মাদক কেনাবেচার অভিযোগ থাকলে এর পেছনে কারা রয়েছে, তারা কীভাবে মাদক সংগ্রহ করছে এবং কারা তাদের সহযোগিতা করছে?
স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের কাছে কালাইয়ারহাট বাদামতলসহ বোয়ালখালীর মাদকপ্রবণ এলাকাগুলোতে কার্যকর নজরদারি, নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
Leave a Reply