
(জুনায়েদ হাসান)
আসলে আমরা যখন কোনো কিছু খুঁজি, তখন আমাদের মস্তিষ্ক সেই দৃশ্যের প্রতিটি বস্তুকে একসঙ্গে বিশ্লেষণ করতে পারে না
তোমার কি কখনো এমন হয়েছে, আম্মু একটা জিনিস খুঁজতে পাঠাল আর তুমি হন্যে হয়ে খুঁজেও সেটা পেলে না? কিন্তু তুমি অবাক হয়ে দেখলে, আম্মু ঘরে আসা মাত্রই একদম তোমার চোখের সামনে থেকে জিনিসটা খুঁজে বের করল। তখন মনে হয়, আমি কি তবে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলাম?
আসলে তুমি অন্ধ হওনি, বরং তোমার মস্তিষ্ক একটু ফাঁকিবাজি করেছে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘ভিজ্যুয়াল সার্চ’ বা চোখ দিয়ে কোনো কিছু খোঁজা। আমাদের মস্তিষ্ক এমনিতে অনেক বুদ্ধিমান হলেও এই খোঁজার কাজে মাঝে মাঝে বেশ কাঁচা। তাই কোনো জিনিস একদম চোখের সামনে থাকলেও আমাদের মস্তিষ্ক সেটাকে দেখতে পায় না।
আসলে আমরা যখন কোনো কিছু খুঁজি, তখন আমাদের মস্তিষ্ক সেই দৃশ্যের প্রতিটি বস্তুকে একসঙ্গে বিশ্লেষণ করতে পারে না। সব তথ্য একসঙ্গে নিতে গেলে মস্তিষ্কের ওপর অনেক চাপ পড়ে। তাই মস্তিষ্ক কেবল মনোযোগের ওপর নির্ভর করে কাজ করে। অর্থাৎ সে নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য অর্থাৎ জিনিসের রং বা আকার বেছে নেয় এবং বাকি সবকিছুকে বাদ দিয়ে দেয়।
মনোবিজ্ঞানীরা আমাদের এই মনোযোগকে একটি স্পটলাইট বা টর্চের আলোর সঙ্গে তুলনা করেন। টর্চের আলো যেখানে পড়ে, সেখানকার তথ্যগুলোই কেবল মস্তিষ্ক বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করে। সেই আলোর বৃত্তের বাইরে যা কিছু থাকে, তা আমাদের চোখের সামনে থাকলেও মস্তিষ্ক সেগুলোকে গুরুত্ব দেয় না। এ কারণেই আমরা অনেক সময় না দেখেই খুঁজতে থাকি এবং সামনে থাকা জিনিসটি আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়।
আমাদের মস্তিষ্ক যে ক্রমাগত চোখের দৃষ্টি পরিবর্তন করে, তার পেছনে একটি নির্দিষ্ট শারীরিক কারণ রয়েছে। আমাদের চোখের রেটিনার ঠিক মাঝখানে ‘ফোভিয়া’ নামক একটি অংশ থাকে, যা আমাদের সবচেয়ে পরিষ্কার বা স্পষ্ট দেখতে সাহায্য করে। কিন্তু এই অংশটি এতটাই ছোট যে, এটি আপনার হাতের নখের সমান জায়গাটুকুই কেবল স্পষ্ট দেখতে পায়। তাই পুরো একটি দৃশ্য ভালোভাবে দেখার জন্য আমাদের চোখকে বারবার এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় তাকাতে হয়, যাতে ছোট এই অংশের মাধ্যমে চারপাশের সব তথ্য স্পষ্টভাবে মস্তিষ্কে পৌঁছাতে পারে।
চোখের এই দ্রুত লাফালাফিকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘স্যাকাড’ (Saccade)। এটি প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে। এমনকি তুমি যখন মনে করো যে তুমি কোনো জিনিসের দিকে একদম স্থির হয়ে তাকিয়ে আছো, তখনো আসলে তোমার চোখ স্থির থাকে না। তোমার অজান্তেই চোখ খুব দ্রুত এক বিন্দু থেকে অন্য বিন্দুতে ছুটে বেড়ায়
Leave a Reply