
নেত্রকোনা প্রতিনিধি : মো: কামাল হোসেন
নেত্রকোনার মদন উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের মাখনা গ্রামে মৃত ব্যক্তির নামে স্বাক্ষর দেখিয়ে জমি দখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় ২১ বছর আগে মারা যাওয়া আব্দুর রেজেক মিয়ার নামে ২০২৫ সালে দলিলে স্বাক্ষর দেখিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে জমি নিজের নামে লিখে নিয়েছেন একই গ্রামের নূর ভক্ত নামের এক ব্যক্তি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বয়স্ক ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অসহায় মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার পর সেই স্বাক্ষর ব্যবহার করে জমি সংক্রান্ত প্রতারণা করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এভাবে একাধিক ব্যক্তির জমি জাল দলিলের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, জীবিত আরেক আব্দুর রেজেক মিয়াকে বয়স্ক ভাতার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তার ভোটার আইডি কার্ড ও স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়। পরে সেই স্বাক্ষর ব্যবহার করে বহু বছর আগে মৃত আব্দুর রেজেক মিয়ার সম্পত্তি নিজের নামে দলিল করার চেষ্টা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জীবিত আব্দুর রেজেক মিয়াও এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নূর ভক্তের বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত প্রতারণার একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং তার কয়েকজন নিকট আত্মীয়ও এ ধরনের কর্মকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। এ সংক্রান্ত একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলেও জানান ভুক্তভোগীরা।
এছাড়া, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ভক্তদের দেওয়া হযরত কামাল শাহ (রহ.)-এর মাজারের অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, মাজারের উন্নয়নের জন্য সংগৃহীত অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যয় করে তিনি নিজ বাড়ির নির্মাণকাজে ব্যবহার করেছেন। বর্তমানে তার বাড়িতে পাকা ভবন নির্মাণ হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আমাদের নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি সরেজমিনে মাখনা গ্রামে গিয়ে একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেন। তারা জানান, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব ও পরিচয় ব্যবহার করে নূর ভক্ত এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কিছু নেতার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল এবং সেই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। মাদকবিরোধী অভিযানে তিনি গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।
বর্তমানে বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে আবারও বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নূর ভক্ত। যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং অভিযোগগুলোর কোনো সত্যতা নেই।
এদিকে ভুক্তভোগীরা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত, জালিয়াতির মাধ্যমে দখল হওয়া জমি প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Leave a Reply