
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানাধীন মোহরা কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নামে বেনামে সড়কে চলছে অবৈধ টুকটুকি ও টেম্পো সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, ফিটনেসবিহীন ও অনুমোদনহীন শত শত টুকটুকি প্রতিদিন প্রকাশ্যে মূল সড়ক দখল করে পার্কিং করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একদিকে ফুটপাত ব্যবসায়ীদের দখলে পথচারীদের চলাচলের রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে অবৈধ টুকটুকি ও টেম্পোর দখলে রয়েছে মূল সড়ক। ফলে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
প্রশ্ন উঠেছে, এসব ফিটনেসবিহীন টুকটুকি ও টেম্পো সরকারকে কী পরিমাণ রাজস্ব, কর বা ভ্যাট প্রদান করছে? অথচ বৈধ কাগজপত্র ও লাইসেন্সধারী গ্রাম সিএনজি অটোরিকশা আরপি (রুট পারমিট) শর্ত ভঙ্গ করে নগরীতে প্রবেশ করলে ট্রাফিক আইনে আটক ও মামলা দেওয়া হয়। আইন প্রয়োগে আপত্তি নেই, কিন্তু একই এলাকায় হাজার হাজার রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবৈধ টুকটুকি টেম্পো গুলোর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান অভিযান না থাকায় জনমনে বৈষম্যের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কিছু অসাধু ব্যক্তি পুলিশ, সাংবাদিক এবং প্রভাবশালী মহলের নাম ব্যবহার করে মাসোয়ারা আদায়ের মাধ্যমে এসব অবৈধ যানবাহন পরিচালনার সুযোগ করে দিচ্ছে। যদিও এ অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন, তবে অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মোহরা ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনেই দিনের পর দিন সড়ক দখল করে এসব যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। প্রশ্ন উঠেছে, বিষয়টি কি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নজরের বাইরে, নাকি অন্য কোনো কারণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না?
সচেতন মহলের দাবি, আইন সবার জন্য সমান। পুলিশ, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তি—কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। যদি কারও নাম ব্যবহার করে অবৈধ যানবাহন পরিচালনা, চাঁদাবাজি কিংবা সড়ক দখলের মতো কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
জনস্বার্থে অবিলম্বে মোহরা কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় চলমান অবৈধ টুকটুকি সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি, সড়ক দখল এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এখন প্রশ্ন একটাই—আইনের চোখে কি সবাই সমান, নাকি কিছু অবৈধ যানবাহনের জন্য রয়েছে অদৃশ্য আশ্রয়-প্রশ্রয়?
Leave a Reply