
নিজস্ব সংবাদাতা
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের কঞ্জুরি নুরবক্স বাড়ি এলাকার বাসিন্দা মোছাম্মদ নূর বেগম ও তার ভাইদের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান প্রতারণামূলক নামজারি করেছে মর্ম ঐ-নামজারি ও বি-এস খতিয়ান সৃষ্টির বিরুদ্ধ বোয়ালখালী উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী নুর বেগম। ওক্ত অভিযোগ আমলে নিয়ে সারোয়াতলী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তাকে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করার নির্দেশ দেন।
পরে ভুক্তভোগী নুর বেগম অত্র প্রতিবেদনের খবরাখবর নিতে সারোয়াতলী ইউনিয়ন ভূমি উপ সহকারী কর্মকর্তা তারানুমা এলাহী এর সাথে দেখা করিলে ওই ভূমি কর্মকর্তা ভুক্তভোগী নুর বেগমের প্রতিবেদন তার অনুকূলে দেওয়ার আশ্বাসে ৮০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে যার প্রমান অডিও রেকর্ডে রয়েছে।
পরে নিরুপয় হয়ে ভুক্তভোগী নূর বেগম সারোয়াতলী ইউনিয়ন ভূমি উপ সহকারী কর্মকর্তা তাব্বাসুম এলাহির একটি অডিও রেকর্ড, দলিল, ইউনিয়ন পরিষদের রায়, তদন্ত প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন নথিপত্র সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরে এ-আভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী নুর বেগম বলেন, ১৯৭২ সালের ৫ অক্টোবর মনিন্দ্রলাল চক্রবর্তী ৪০৬৬ নং দলিল মূলে আর.এস. ২০৯২ দাগ (বি.এস. ২০৫৪ দাগ)-এর ০.২৭০০ একর জমি মোছাম্মদ সালেহা খাতুনের কাছে বিক্রি করেন। ওই বিক্রয় দলিলে বর্তমান অভিযুক্ত মিলন চক্রবর্তী সাক্ষী হিসেবেও স্বাক্ষর করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি নিজেকে মালিক দাবি করে প্রতারণার মাধ্যমে বি.এস. ২০৫৪ দাগের ০.১৩৫০ একর জমির ৩০১৩ নং খতিয়ান নিজের নামে সৃষ্টি করেন এবং ১৪২৭ থেকে ১৪৩০ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত ওই জমির খাজনা পরিশোধ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় নূর বেগম ২৯ জুলাই ২০২৩ তারিখে সারোয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগ দায়ের করিলে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ইউনিয়ন পরিষদ রায়ে উল্লেখ করে যে, মনিন্দ্রলাল চক্রবর্তীর বিক্রয়কৃত জমির ওপর তার ছেলে মিলন চক্রবর্তীর কোনো মালিকানা নেই। ওই রায়ের কপিতে মিলন চক্রবর্তী নিজেও স্বাক্ষর করেন বলে জানা গেছে।
পরে ইউনিয়ন পরিষদের রায়ের কপি সংযুক্ত করে ভুক্তভোগী পরিবার উপজেলা ভূমি অফিসে অভিযোগ দায়ের করিলে ২ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে সারোয়াতলী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা তারানুমা এলাহী সরেজমিন তদন্ত করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কঞ্জুরি মৌজার বি.এস. ১২৩ নং খতিয়ানের ২০২৪ দাগে মোট ০.৮১০০ একর জমির মধ্যে বি.এস. ২০৫৪ দাগের ০.২৭০০ একর জমি ১৯৭২ সালের ৪০৬৬ নং দলিল মূলে সালেহা খাতুনের ক্রয়কৃত সম্পত্তি। এছাড়া ২-১২/১৬ নং নামজারি জমাভাগ মামলার মাধ্যমে সৃষ্ট ৩০১৩ নং খতিয়ানের জমি বর্তমানে বাদীপক্ষের দখলে রয়েছে বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের দলিলের বিষয়টি উল্লেখ করে অভিযোগটি খারিজ করা হয় বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী। এরপর তিনি প্রতারণামূলক নামজারি ও বিএস খতিয়ানের বিরুদ্ধে ২২/০৬/২০২৬ ইংরেজী তারিখে পুনরায় আবারো বোয়ালখালী উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কুঞ্জরি মৌজার নামজারি মামলা নং- ডিপি-২-১২/১৬,উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সারোয়াতলী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে পাঠান।
পরে ভুক্তভোগী নূর বেগমের ভাষ্যমতে, তদন্ত প্রতিবেদনের অগ্রগতি জানতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করিলে ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওই তদন্ত প্রতিবেদন তার অনুকূলে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সারোয়াতলী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি উপ সহকারী কর্মকর্তা তারানুমা এলাহী ভুক্তভোগী নুর বেগমের কাছে ৮০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে জানান তিনি, ভুক্তভোগী নুর বেগম আরো জানান সারোয়াতলী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি উপ সহকারী কর্মকর্তা তারানুমা এলাহী ঘুষের টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য মোহরা পাঁচতলা এলাকায় তার বাসার ঠিকানাও দেন।
অন্যদিকে অডিওতে শোনা যায়, তিনি একসঙ্গে এত টাকা দিতে অক্ষমতার কথা জানিয়ে বলেন, যতটুকু সংগ্রহ করতে পারবেন তা নিয়ে আসবো
পরদিন ভুক্তভোগী নুর বেগম ধার করে ৫ হাজার টাকাসহ নাস্তা পানি নিয়ে ওই বাসায় গেলে ১ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে দাবি করেছে বলে জানান ভুক্তভোগী। পরে নিরুপায় হয়ে তিনি ফিরে এসে বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান এবং অডিও রেকর্ডসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ তাদের কাছে হস্তান্তর করেন।
ভুক্তভোগীর আরো বলেন সাংবাদিকদের কাছে অডিও রেকর্ড ও অন্যান্য তথ্য দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তাকে ফোন করে কেন অডিও রেকর্ড করেছেন এবং কেন সাংবাদিকদের দিয়েছেন—এসব প্রশ্ন তুলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাংবাদিকরা সারোয়াতলী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি উপ কর্মকর্তা তারানুমা এলাহীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করিলে। প্রথমে তিনি ফোন রিসিভ করলেও সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বক্তব্য চেয়ে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি ফোনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে কয়েকটি লিখিত বার্তা পাঠান, যার স্ক্রিনশট সাংবাদিকদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
এ বিষয়ে বোয়ালখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতিমা সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন অমি অডিও রেকর্ডটি এখনো দেখিনি রেকর্ডটি দেখা এবং তার সাথে কথা বলে আপনাকে ফোন দিয়ে জানাবো পরে তিনিও আর ফোন দিয়ে জানাই নি।
বহু বছর ধরে পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পেতে এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে জানান নূর বেগম। তার দাবি, ন্যায়বিচার পাওয়ার পরিবর্তে তাকে প্রতিনিয়ত হয়রানি, প্রতারণা, ঘুষের চাপ এবং ভয়ভীতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তিনি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার পরিবারের বৈধ পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Leave a Reply