
মোঃ আজম খাঁন লেখক ও সংবাদকর্মী।
৬ মে,২০২৬ বুধবার।
দেশজুড়ে সাংবাদিকরা আজ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তথ্য সংগ্রহে গেলেই হামলা, হুমকি, মামলা—আর অনেক ক্ষেত্রে উল্টো প্রশাসনিক জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে ভুক্তভোগীকেই। অপরদিকে দুর্নীতিবাজ, মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজরা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়। এই বাস্তবতা স্পষ্ট করে—সত্য বলাই যেন এখন সবচেয়ে বড় “অপরাধ”।
দুর্নীতি, মাদক, বালু মহাল, ভূমি দখল বা চোরাকারবার নিয়ে প্রতিবেদন করলেই সাংবাদিকদের টার্গেট করা হচ্ছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে তাদের ‘চাঁদাবাজ’ তকমা দিয়ে জনমত বিভ্রান্ত করছে, যাতে অপরাধের খবর চাপা পড়ে যায়। অথচ বাস্তবতা হলো—সব সাংবাদিক খারাপ নয়; বরং তারাই সমাজের আয়না, যারা জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরে।
গ্রামবাংলার লাখো মানুষ গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশের বাস্তব চিত্র জানতে পারে। কোথায় কি হচ্ছে—মাদক কারা ছড়াচ্ছে, কারা দুর্নীতিতে জড়িত—এসব প্রথম উঠে আসে স্থানীয় সাংবাদিকদের কলমে। সেই কলম থামিয়ে দেওয়ার মানে হলো সমাজকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া।
দুঃখজনকভাবে, সাংবাদিক সংগঠনগুলোর ভূমিকাও এখন প্রশ্নবিদ্ধ। সংকটে সহকর্মীর পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হলে সেই সংগঠনের অস্তিত্বই অর্থহীন হয়ে পড়ে। উপজেলা থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
প্রশ্ন স্পষ্ট: সত্য প্রকাশ করা কি অপরাধ? অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করলে হামলার শিকার হতে হবে কেন?
দাবি একটাই: সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ এখনই নিতে হবে। মনে রাখতে হবে—কলম থামানো যায় না, সত্য একদিন ঠিকই প্রকাশ পায়।
Leave a Reply