
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়ন, নাগরিক সমস্যা নিরসন ও পরিকল্পিত নগরায়ণে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)-এর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের চলমান বিভিন্ন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে প্রশাসন, সিডিএ, নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
চট্টগ্রামের চলমান বিভিন্ন সমস্যা, নাগরিক দুর্ভোগ, নগর উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ২টায় নগরীর চকবাজারস্থ বালি আর্কেড কনভেনশন সেন্টারে এ বৈঠকি সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ ও মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কেন্দ্রীয় ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে নগরীর যানজট, জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশের ভারসাম্য, নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
সিডিএ চেয়ারম্যানের উদ্যোগের প্রশংসা
সভায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন বক্তারা। তারা বলেন, চট্টগ্রাম একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী ও দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। অথচ দীর্ঘদিন ধরে নানা নাগরিক সমস্যা ও পরিকল্পনাহীনতার কারণে নগরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য এমন একজন চেয়ারম্যানের প্রয়োজন ছিল, যিনি নগরীর বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। সিডিএ চেয়ারম্যানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে চট্টগ্রামের উন্নয়ন নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
তারা বলেন, উন্নয়ন শুধু প্রকল্প গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না; সেই উন্নয়নের সুফল যেন সাধারণ নাগরিকের কাছে পৌঁছে, সেটিই হতে হবে মূল লক্ষ্য। নগর পরিকল্পনা, পরিবেশ, যোগাযোগব্যবস্থা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ বলেন, চট্টগ্রামের স্বার্থে যেকোনো ইতিবাচক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানাবেন। একই সঙ্গে সিডিএ চেয়ারম্যানকে নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরও সাহসী, কার্যকর ও জনবান্ধব পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
নাগরিক ফোরামের সহযোগিতার আশ্বাস
সভায় বক্তারা বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম কোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করতে চায় না; বরং চট্টগ্রামের মানুষের স্বার্থে ইতিবাচক উদ্যোগের পাশে থেকে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে চায়।
চট্টগ্রামের উন্নয়নকে একটি সমন্বিত নাগরিক আন্দোলনে পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, সিডিএ, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজ একসঙ্গে কাজ করলে চট্টগ্রামের বহু সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব।
মহানগর কমিটিকে আরও সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত
সভায় বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটিকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, মহানগর কমিটিকে শুধু সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নগরবাসীর বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় হতে হবে। নাগরিকদের অভিযোগ ও প্রত্যাশাগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা তুলে ধরার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।
এ জন্য মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সংগঠনের কার্যক্রম বিস্তৃত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ধারাবাহিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত
সভায় পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। নগরীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, অপরিকল্পিত নির্মাণ এবং সবুজ এলাকা কমে যাওয়ায় পরিবেশের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আলোকে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে চট্টগ্রাম নগরী ও বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, শুধু একটি দিনের কর্মসূচি হিসেবে বৃক্ষরোপণ করলে এর কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না। তাই নিয়মিত বৃক্ষরোপণ, পরিচর্যা এবং রোপণ করা গাছের সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। এ কর্মসূচিতে তরুণ সমাজ, শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ নাগরিকদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তারা বলেন, সবুজ চট্টগ্রাম শুধু একটি স্লোগান নয়—এটি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলার অঙ্গীকার।
চট্টগ্রামের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
বৈঠকে বক্তারা আরও বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় বিভাজন নয়, প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে চট্টগ্রামের সামগ্রিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তারা বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়ন শুধু নগরকেন্দ্রিক নয়; চট্টগ্রাম জেলা ও বৃহত্তর চট্টগ্রামের অন্যান্য অঞ্চল—কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিক ফোরাম ভবিষ্যতে বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করবে।
সভায় নেতৃবৃন্দ সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের চলমান উন্নয়ন উদ্যোগের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত ও সমর্থন জানিয়ে বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নের স্বার্থে ইতিবাচক যেকোনো পদক্ষেপে নাগরিক ফোরাম গঠনমূলক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
যাঁরা উপস্থিত ছিলেন
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মহসিন বাবুল, চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হামিদ হোসাইন, সিনিয়র সহসভাপতি লায়ন জিল্লুর রহমান শাকিল, মজিবুর রহমান চৌধুরী, মির্জা নুরুল আলম মাস্টার, জালাল উদ্দীন, জানে আলম বাবলু, মোহাম্মদ উদ্দিন মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ বেলাল, হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ শফিউদ্দিনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সভা শেষে নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রামের উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
Leave a Reply