
যশোর প্রতিনিধি:
ক্রেডিট কার্ডের তথ্য সংগ্রহ করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূল হোতা ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। চক্রটি প্রতারণার মাধ্যমে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা ০৬টি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) নম্বরে স্থানান্তর করে নেয়।
গত ১৯/০৮/২০২৬ খ্রি. বিকালে দিনাজপুর কোতয়ালী থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করে সিআইডি যশোর জেলা ইউনিটের একটি আভিযানিক দল।
গ্রেফতারকৃতদের নাম- (০১) শাহীনুর রহমান শাহিন (৫০), পিতা-মৃত ইউসুফ তশীলদার, সাং- উত্তর রামনগন এবং (০২) সঞ্জয় গুপ্তা (৩১), পিতা-মৃত এতোবারি গুপ্তা, সাং-বাহাদুরপুর বাজার, উভয় থানা-কোতয়ালী, জেলা-দিনাজপুর। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত শাহীনুর রহমান শাহিন একটি মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অপর সঞ্জয় গুপ্তা একই মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড প্রমোটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী বাদী যশোরের একটি হাসপাতালের একজন চিকিৎসক। গত ২১/১২/২০২২ খ্রি. তারিখে ভুক্তভোগী যশোর শহরের মুজিব সড়কে অবস্থিত একটি শোরুম থেকে পোশাক কেনার সময় একটি ব্যাংকের ব্যক্তিগত ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে মূল্য পরিশোধ করেন। কার্ড ব্যবহারের সময় কিছুটা জটিলতা দেখা দেওয়ায় লেনদেন সম্পন্ন করতে প্রায় ১৫-২০ মিনিট সময় লাগে। পরবর্তীতে কয়েকদিন পর ৩১/১২/২০২২ খ্রি. তারিখ সন্ধ্যায় একটি অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে ভুক্তভোগী বাদীকে কল করে অজ্ঞাত ব্যক্তি নিজেকে ইবিএল-এর কর্মকর্তা পরিচয় দেয় এবং তার ক্রেডিট কার্ড সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে বলে জানায়। কার্ডটি পুনরায় সচল করার কথা বলে ওই ব্যক্তি বাদীর কাছ থেকে কার্ড-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে।
এর কিছুক্ষণ পর রাতেই ০৭টি পৃথক লেনদেনের মাধ্যমে বাদীর অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা ৬টি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) নম্বরে স্থানান্তর করে নেওয়া হয়। প্রতারিত হয়েছেন বিষয়টা বুঝতে পেরে ওই চিকিৎসক বাদী হয়ে কোতয়ালী (যশোর) থানায় মামলা নং-৮৪, তারিখ-২১/০৩/২০২৩ খ্রি.; ধারা-৪০৬/৪২০/১০৯/৩৭৯ পেনাল কোড দায়ের করেন।
সিআইডির তদন্তকালে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং পূর্বে গ্রেফতারকৃত আসামিদের জবানবন্দির মাধ্যমে চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। মামলার তদন্তে পূর্বে গ্রেফতারকৃত এক অভিযুক্তর বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় প্রদত্ত জবানবন্দি ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণে শাহীনুর রহমান শাহিন ও সঞ্জয় গুপ্তাসহ আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।
তদন্তে আরও জানা যায়, আসামি শাহীনুর রহমান শাহিন একটি মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে তার অধীনস্থ ব্র্যান্ড প্রমোটারদের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রাহকের ফিঙ্গারপ্রিন্ট একাধিকবার সংগ্রহ করে একাধিক সিম নিবন্ধন করাতেন। একটি সিম প্রকৃত গ্রাহকের কাছে দেওয়ার পর অতিরিক্ত ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে নিবন্ধিত অন্য সিমগুলো শাহীনুর রহমান শাহিনের কাছে হস্তান্তর করা হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পরবর্তীতে এসব সিম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা হতো। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এসব সিম ও বিকাশ অ্যাকাউন্ট কুরিয়ারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো এবং পরবর্তীতে বিকাশ প্রতারণা, ক্রেডিট কার্ড প্রতারণাসহ বিভিন্ন ধরনের আর্থিক প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা হতো।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত শাহীনুর রহমান শাহিন ও সঞ্জয় গুপ্তা মামলার ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও অধিকতর তদন্তের স্বার্থে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে রিমান্ডের পৃথক আবেদন প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে।
মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে সিআইডি যশোর জেলা ইউনিট। সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং একই পদ্ধতিতে আরও কোনো ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply