
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
বোয়ালখালীর চরণদ্বীপে নিজ বাড়িতে বসবাসরত প্রবাসী মোঃ সেলিমকে ঘিরে প্রাণনাশের হুমকি ও নানা অনিয়মের অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, নুরুল ইসলাম বাবুলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
শুধু তাই নয়, টাকা আত্মসাৎ, চুরি এবং নিজস্ব সম্পত্তি জবরদখলের অপচেষ্টার অভিযোগও করেছেন প্রবাসী সেলিম।
ঘটনার ধারাবাহিকতায় ২০ জুন ২০২৩ তারিখে বোয়ালখালী থানায় জিডি নং-৯৫৩ দায়ের করেছিলেন তিনি।
কিন্তু অভিযোগকারীর দাবি, জিডি করার পরও পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি।
দেশে ফেরার পরও কথিত হুমকি-ধমকি অব্যাহত থাকায় এবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তিনি।
অভিযোগটি বর্তমানে পুলিশের তদন্তাধীন রয়েছে।
এরই মধ্যে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে বোয়ালখালী থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আশরাফুল আলম দিপু ঘটনাস্থলে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
তিনি প্রবাসী সেলিমের নিজ বসতবাড়ি ঘুরে দেখেন এবং অভিযোগে উত্থাপিত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে তথ্য ও আলামত যাচাই করেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের পরিবেশ, সংশ্লিষ্ট বিষয় ও অভিযোগকারীর বক্তব্য সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রবাসী সেলিমের দাবি, তাঁর কাছে সংরক্ষিত মোবাইল ফোনের ভয়েস রেকর্ডসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ তদন্ত কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপন করতে তিনি প্রস্তুত।
তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগের কোনো অংশকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
অভিযোগের সত্যতা, দায়ী ব্যক্তির পরিচয় এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
এদিকে কষ্টার্জিত অর্থে নির্মিত নিজস্ব ভবনে পরিবার নিয়ে বসবাস করেও নিরাপত্তাহীনতায় থাকার অভিযোগটি নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
একজন প্রবাসী দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার পর দেশে ফিরে নিজের বাড়িতেই যদি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হন, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগকারীর দাবি, হুমকি ও ভয়ভীতির কারণে তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না।
ঘটনার পেছনে প্রকৃত ঘটনা কী—ব্যক্তিগত বিরোধ, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, নাকি অন্য কোনো কারণ—তা তদন্তে স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
অভিযোগে চাঁদা দাবি ও জবরদখলের চেষ্টার মতো গুরুতর বিষয় থাকায় তদন্তে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
একই সঙ্গে ভয়েস রেকর্ড, পূর্বের জিডি এবং বর্তমান লিখিত অভিযোগসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র গুরুত্ব দিয়ে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
প্রবাসী সেলিম কোনো পক্ষপাত নয়, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযোগের কোনো অংশ অসত্য প্রমাণিত হলে তারও যথাযথ আইনগত মূল্যায়নের দাবি রয়েছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—হুমকির অভিযোগের নেপথ্যে আসলে কারা, কী কারণে এবং কী উদ্দেশ্যে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে?
পুলিশের সরেজমিন তদন্তে সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর বেরিয়ে আসবে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
প্রবাসী সেলিমের পাশাপাশি তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
Leave a Reply