
(মোঃ সোলায়মান চট্টগ্রাম)
আজ ২০ আগস্ট। মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সাহসী বীর, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক বীরত্বের খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করার স্বপ্ন বুকে ধারণ করে তিনি পাকিস্তানের মাটিতে জীবন উৎসর্গ করেন।
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান শুধু একজন সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন না; তিনি ছিলেন স্বাধীনতার জন্য আত্মনিবেদিত এক সাহসী বাঙালি। ১৯৪১ সালের ২৯ নভেম্বর ঢাকার আগা সাদেক রোডে তাঁর জন্ম।
পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায়ও তাঁর হৃদয়ে ছিল বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ছুটিতে দেশে অবস্থান করছিলেন। সেই সময় তিনি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেন এবং ভৈরব এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধযুদ্ধে অংশ নেন। পরবর্তীতে পারিবারিক চাপে তাঁকে পাকিস্তানে কর্মস্থলে ফিরে যেতে হলেও স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন তাঁর হৃদয় থেকে মুছে যায়নি।
পাকিস্তানে ফিরে গিয়েও তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করার পরিকল্পনা করেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল একটি প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে এসে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়া। ২০ আগস্ট ১৯৭১ সালে করাচির মাসরুর বিমানঘাঁটি থেকে একটি টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান উড্ডয়ন করলে তিনি সেটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরিকল্পনাটি সফল হয়নি। বিমানটি থাট্টার কাছে বিধ্বস্ত হয় এবং সেখানেই তিনি শহীদ হন।
তাঁর এই আত্মত্যাগ ছিল স্বাধীনতার প্রতি এক অসাধারণ অঙ্গীকারের প্রতীক। তিনি জানতেন, মাতৃভূমির মুক্তির জন্য তাঁর সামনে কঠিন পথ। তবুও মৃত্যুভয় তাঁকে তাঁর দায়িত্ব থেকে সরাতে পারেনি। স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার প্রত্যয়েই তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য সাহস, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতার পর তাঁকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক বীরত্বের খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করা হয়।
দীর্ঘদিন পাকিস্তানের মাটিতে সমাহিত থাকার পর ২০০৬ সালের ২৪ জুন তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে আনা হয়। পরদিন তাঁকে ঢাকার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
অমর হয়ে আছেন ইতিহাসের পাতায়
আজ ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের আত্মত্যাগ বাঙালি জাতির কাছে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল অধ্যায়। তাঁর জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেন, তাঁদের মৃত্যু নেই; তাঁরা বেঁচে থাকেন জাতির স্মৃতি, ইতিহাস ও প্রজন্মের হৃদয়ে।
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি এই মহান দেশপ্রেমিককে। তাঁর আত্মত্যাগ আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসের এক অমর অধ্যায় হয়ে থাকবে।
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করি বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানকে।
Leave a Reply