
নিজস্ব সংবাদাতা:
সীতাকুণ্ডের আলীনগর ও জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও বিস্ফোরক দ্রব্য সংক্রান্ত অপরাধ দমনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ খ্রি. দিবাগত রাত থেকে ২৫ আগস্ট ২০২৬ খ্রি. ভোর পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আলীনগর ও জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে উল্লিখিত এলাকা থেকে মোট ০৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হল: মো. জুয়েল (৩০), মো. ফারুক (২৯), মো. আইনুদ্দিন (৩৬), মো. ফেরদৌস (৫০) এবং মো. শাহজাহান (৫৫) আলীনগর, সলিমপুর/জঙ্গল সলিমপুর, থানা-সীতাকুণ্ড, জেলা-চট্টগ্রাম।
গ্রেফতারকৃত ১নং হতে ৪নং আসামির বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড মডেল থানার মামলা নং-০৫, ধারা: বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৫(৩)/২৫(ঘ) এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ৩/৪-এ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
অপরদিকে, গ্রেফতারকৃত ৫নং আসামি মো. শাহজাহান দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াছিনের অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। সে পেশাদার সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ডসহ চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন অপরাধে ২০টির অধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া সে একাধিক মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ছিল।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের সংশ্লিষ্টতা, তাদের সহযোগী ও অন্যান্য অপরাধের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার বলেন, চট্টগ্রাম জেলার কোথাও সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক, অস্ত্র কিংবা বিস্ফোরক দ্রব্যের অপব্যবহার কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আলীনগর ও জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যতই শক্তিশালী বা প্রভাবশালী হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। জনগণের নিরাপত্তা, শান্তি ও স্বাভাবিক জীবনযাপন নিশ্চিত করাই চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, মাদক, অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংক্রান্ত অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply