
এম.হান্নান রহিম তালুকদার
সংসার সুখের হবে—এই আশায় নিজের রক্ত পানি করা উপার্জনে স্ত্রীর সমস্ত আবদার মিটিয়েছিলেন ওমানে প্রতিষ্ঠিত এক প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা। কিন্তু ভাগ্য তার সহায় হয়নি। মাদকাসক্তি ও একাধিক পরকীয়া প্রেমের গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর, উল্টো স্বামীকে ফাঁসাতে একের পর এক অবাস্তব ও ভিত্তিহীন মিথ্যা মামলা দায়ের করে চলেছেন পম্পী চৌধুরী (৩৪) নামের এক গৃহবধূ। নিরীহ প্রবাসী স্বামী পিকলু দত্ত (৩৭) ও তার পরিবার এখন স্ত্রীর এই ধারাবাহিক হয়রানিমূলক মামলা এবং প্রাণনাশের হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
নথিপত্র পর্যালোচনা ও ঘটনা অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বোয়ালখালী নিবাসী অঞ্জন দত্তের পুত্র ওমান প্রবাসী পিকলু দত্তের সাথে বাঁশখালী উপজেলার চেচুরিয়া গ্রামের সমীর চৌধুরীর কন্যা পম্পী চৌধুরীর বিয়ে হয়। ২০১৭ সালে তারা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিবাহ ঘোষণা করেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুই পুত্র সন্তানও রয়েছে।
পরকীয়া লুকাতে একের পর এক মিথ্যা মামলা,
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিকলু দত্ত প্রবাসে থাকার সুবাদে তার স্ত্রী পম্পী চৌধুরী মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এবং একাধিক পুরুষের সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। যার অসংখ্য অকাট্য প্রমাণ ইতিমধ্যেই স্বামীর হাতে আসে। স্ত্রীর এই অনৈতিক ও উশৃঙ্খল জীবনযাপনের প্রতিবাদ করায় তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয়।
নিজের পরকীয়ার অপরাধ ঢাকতে এবং স্বামীকে মানসিকভাবে পঙ্গু করতে পম্পী চৌধুরী ২০২০ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১, চট্টগ্রামে ৪ জনকে আসামি করে একটি মিথ্যা যৌতুক ও নির্যাতনের মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ৩৪৮/২০)। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তদন্তে কোনো সত্যতা না পাওয়ায় এবং নিজের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার ভয়ে ২০২১ সালের ৩১ মার্চ পম্পী চৌধুরী নিজেই আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন। ২০২০ সালের ১৮ অক্টোবর উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে একটি স্ট্যাম্পের মাধ্যমে আপোশনামাও সম্পাদিত হয়, যেখানে পম্পী নিজের ভুল স্বীকার করে মামলা প্রত্যাহারের মুচলেকা দেন।
একই নাটকের পুনরাবৃত্তি ও সাজানো মিথ্যা মামলা দিয়ে সুবিধা করতে না পেরে এবং পরকীয়ার নেশা না ছুটায়, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে পম্পী চৌধুরী বাপের বাড়িতে চলে যান। সেখান থেকে প্রেমিক ও মাদক সিন্ডিকেটের সহযোগিতায় প্রবাসী স্বামীকে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকেন ও গত ১৮/০৬/২০২৫ তারিখে সি.আর-৩২১/২৫ (বোয়ালখালী থানা) মামলায় পম্পী চৌধুরী আবারও স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় নতুন করে মিথ্যা অভিযোগ তোলেন।
সেই সাথে আবার ও দায়ের করেন মিথ্যা সাজানো নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা। এই বিষয়ে নিরুপায় হয়ে স্বামী পিকলু দত্ত গত ০৭/০৭/২০২৫ তারিখে বোয়ালখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ২৯৩) দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী রেমিট্যান্স যোদ্ধা পিকলু দত্ত জানান, আমি প্রবাসে দিনরাত খাটুনি করে পম্পীর সমস্ত বিলাসী জীবনযাপনের খরচ জুগিয়েছি। কিন্তু তার মাদকাসক্তি ও পরকীয়ার অকাট্য প্রমাণ আমার কাছে থাকায় সে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে ও আমার বৃদ্ধ বাবা-মাকে হয়রানি করছে। একটি মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হলে সে আবার নতুন মামলা সাজায়। আমি এবং আমার পরিবার তার ও তার মাফিয়া চক্রের অব্যাহত হুমকিতে আজ দিশেহারা। আমি প্রশাসনের কাছে এই মিথ্যা মামলাবাজ ও চরিত্রহীন নারীর হাত থেকে মুক্তি এবং জীবনের নিরাপত্তা চাই।
Leave a Reply