
বোয়ালখালী সংবাদদাতা :
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বাকপ্রতিবন্ধী যুবক হাসমত আলীকে (৩৭) হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (২৪ মে) রাতে নিহত হাসমত আলীর মা মাজমা বেগম বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করেছেন।
নিহত হাসমত আলী পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের লাখেরা গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে। তার তিন ছেলে রয়েছে। সে পেশায় দিন মজুর ছিল।
জানা গেছে, রবিবার ভোরে উপজেলার শাকপুরা এলাকার বিসমিল্লাহ ফেব্রিক্স লিমিটেড কারখানায় চোর অপবাদ দিয়ে বাকপ্রতিবন্ধী হাসমত আলীকে দড়ি দিয়ে খুঁটির সাথে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে পুলিশের পরামর্শে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। এসময় হাসপাতাল চত্বর থেকে কারখানার দায়িত্ব তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে পুলিশ।
তবে সঠিক সময়ে পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নিলে হাসমত আলী প্রাণে বেঁচে যেতো বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়রা বলছেন, যুবককে আটকের পর থানা পুলিশকে জানানো হয়েছিল। পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় যুবককে উদ্ধার করা যায়নি। কারখানা কর্তৃপক্ষ পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন বলেও দাবি করছেন। অথচ যুবককে মারধরের একটি ভিডিও ফুটেজ পুলিশের পৌঁছে ছিল।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভোর রাতে বিসমিল্লাহ ফেব্রিক্স ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করায় হাসমত আলীকে চোর অপবাদ দিয়ে আটক করা হয়। এর এক পর্যায়ে তার হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং আহত অবস্থায় হাত-পা বেঁধে দীর্ঘ সময় ফেলে রাখা হয়। ঘটনাটি ভোর রাতে ঘটলেও দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাফুজুর রহমান বলেন, মামলা দায়েরের পর এজাহারনামীয় আসামি কারখানার ম্যানেজার (মানব সম্পদ) মো. মোশারফ হোসেন, জেনারেল অ্যাডমিন হাফেজ মো. মনিরুল ইসলাম ও সিকিউরিটি শিফট ইনচার্জ আমির হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply