
মোঃ আজম খাঁন চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নগরীতে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগকে “ডাহা মিথ্যা” ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি মহল জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং “ঘোলা পানিতে মাছ শিকার” করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
সোমবার (১৮ মে ২০২৬) নগরীর টাইগারপাসস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং ও সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, জুলাই-আগস্ট গণআন্দোলনের গ্রাফিতি মুছে ফেলার জন্য তিনি কখনো কোনো নির্দেশ দেননি এবং ভবিষ্যতেও দেবেন না। তিনি জানান, নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চসিকের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ নিয়মিতভাবে বিভিন্ন দেয়াল, পিলার ও স্থাপনা থেকে পোস্টার-ব্যানার অপসারণ এবং রং করার কাজ করে থাকে। টাইগারপাসসহ যেসব স্থানে সম্প্রতি রং করা হয়েছে, সেখানে মূলত পোস্টারে ঢেকে থাকা দেয়াল পরিষ্কার করা হয়েছে এবং দৃশ্যমান কোনো গ্রাফিতি ছিল না।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন,
“জুলাই-আগস্টের চেতনার বিরুদ্ধে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমি নিজে দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে আন্দোলন করেছি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামে প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরাম আমারই অনুসারী ছিল।”
তিনি আরও বলেন, নগরীতে যদি নতুন করে গ্রাফিতি আঁকার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে তা যেন পরিকল্পিত, শৈল্পিক ও নান্দনিকভাবে করা হয়। এ ক্ষেত্রে আর্ট কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কিংবা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও অর্থায়নের আশ্বাস দেন।
মেয়র বলেন,
“অপরিকল্পিত হাতের লেখার পরিবর্তে শৈল্পিক ও মানসম্মত গ্রাফিতি শহরের সৌন্দর্য ও ভাবমূর্তি আরও সমৃদ্ধ করবে।”
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা সহায়তার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ৪ আগস্ট যখন অনেক হাসপাতাল আহতদের ভর্তি নিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছিল, তখন তিনি নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এছাড়া ৬ আগস্ট চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের মাঝে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন বলেও জানান। শহীদ পরিবারগুলোকেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহযোগিতা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এনসিপির সাম্প্রতিক বক্তব্য ও কর্মসূচি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন,
“সামনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্যই একটি মহল এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
নিজের মেয়াদের বিষয়ে তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগতভাবে তিনি বৈধ মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বহাল রয়েছে। তবে তিনি দ্রুত একটি অবাধ, সুষ্ঠু, প্রতিযোগিতামূলক ও উৎসবমুখর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি জানান।
লালখান বাজার এলাকায় গত রাতে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তিনি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্মীদের সরিয়ে আনেন। তিনি বলেন,
“এই শহর সবার। আমরা একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে চাই। সংঘাত বা সাংঘর্ষিক কোনো পরিস্থিতি আমরা চাই না।”
Leave a Reply