
বোয়ালখালী সাংবাদাতা:
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী-থানাধীন সারোয়াতলী ইউনিয়নের কনজুরি নুরবক্স বাড়ি এলাকার মোছাম্মদ নুর বেগম ও তার ভাইদের পৈত্রিক সম্পত্তি মিলন চক্রবর্তী প্রকাশ মনুঠরের বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক নামজারিও বিএস করার অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগী পরিবার বলেন ১৯৭২ ইংরেজি সনে মনিন্দ্রলাল চক্রবর্তী ৪০৬৬ নং দলিল মূলে ২৭ একর জায়গা সালেহা খাতুন এর নিকট বিক্রি করে উক্ত দলিলে মিলন চক্রবর্তী সাক্ষীও রয়েছে ভুক্তভোগী আরো বলেন তার বাবা মনিন্দ্রলাল এর বিক্রয়কৃত জায়গা ১৪২৭ বাংলা সন হইতে ১৪৩০ বাংলা সন পর্যন্ত নিজেই প্রতারণামূলক মালিক সাজিয়া উক্ত জায়গার খাজনা প্রদান করেন। এমনকি মিলন চক্রবর্তীর নামে উক্ত জায়গা নামজারি বি.এস খতিয়ানও করেন যার খতিয়ান নং ৩০১৩
পরে ভুক্তভোগী নুর বেগম নিরুপায় হয়ে নিকটস্থ ইউনিয়ন পরিষদে হাজির হইয়া মিলন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক একটি অভিযোগ দায়ের করেন
২৯/০৭/২০২৩ ইংরেজি তারিখে উক্ত অভিযোগে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ইউনিয়ন পরিষদে একটি রায় দেন, উল্লেখিত রায়ে বলা হয় যে মনিন্দ্রলাল চক্রবর্তী উক্ত জায়গা বিক্রির দলিল মোতাবেক তার ছেলে মিলন চক্রবর্তী ওই জায়গার মালিক নয় মর্মে মিলন চক্রবর্তী রায়ের কাগজে সাক্ষরও করেন।
উক্ত রায়ের কপি মোতাবেক ভুক্তভোগী সারোয়াতলী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অভিযোগ করিলে অভিযোগের ভিত্তিতে ০২/০১/২০২৫ ইংরেজি তারিখে মাননীয় ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা তারান্নুম এলাহী’র সরজমিনে গিয়ে তদন্ত করেন তদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ থাকে যে কঞ্জরি মৌজার বি,এস ১২৩ নং খতিয়ানের ২০২৪ দাগে ০.৮১০০ একর জমি ৯১৩ আনা অংশে ১৩৫০ একর জমি মনিন্দ্র লাল চক্রবর্তী পিতা-শ্যামা চরণ চক্রবর্তী নামে বি,এস চুড়ান্ত প্রচার আছে।
উক্ত রেকর্ডীয় মালিক মনিন্দ্র লাল হইতে জড়িপ চলাকালীন সময়ের ০৫/১০/৭২ইং তারিখে ৪০৬৬ নং দলিল মূলে আর, এস ২০৯২ দাগে অনুরূপ বি,এস ২০৫৪ দাগে ০.২৭০০ একর জমি খরিদা সূত্রে মালিক মোছাম্মদ সালেহা খাতুন। সালেহা খাতুনের মৃত্যুর পূর্বে ওয়ারিশ আবেদনকারী।
নামজারি জমাভাগ মামলা নং ২-১২/১৬ এর প্রস্তাব পর্যালোচনায় দেখা যায় রেকর্ডীয় মালিক সুরেন্দ্র লাল চক্রবর্তী, পিতা শ্যামচরণ চক্রবর্তী এর মৃত্যুর পুর্বে ওয়ারিশ হিসেবে মনিন্দ্র লাল চক্রবর্তী নালিশী বি,এস ২০৫৪ দাগে ০.১৩৫০ একর জমি প্রাপ্ত হয়।
উক্ত মনিন্দ্র লাল চক্রবর্তী এর মৃত্যুর পুর্বে ওয়ারিশ সুত্রে বিবাদী মামলামুলে নালিশী বি,এস ২০৫৪ দাগে ০.১৩৫০ একর জমির ৩০১৩ নং খতিয়ান সৃজন করেন। সরজমিনে তদন্ত (২০/০২/২০২৪ইং তারিখে উপস্থিত বাদী ও বিবাদীর এবং উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে
জানা যায় ২-১২/১৬ নং নামজারি মামলা সৃজিত ৩০১৩ খতিয়ানের জমি বাদীর দখলে রয়েছে।
তদন্তকালে আরো জানা যায় যে নালিশীদাগের জমি নামজারি করাটা বিবাদী মিনল চক্রবর্তীর ভুল হয়েছে মর্মে তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে স্বীকার করে তিনি বলেন প্রয়োজনে আমি না দাবী দিব।
পরে ভুক্তভোগী সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের অপর মামলা নং ৭১/২০২৫ এ ১৮ নং বিবাদী হিসেবে মিলন চক্রবর্তীর প্রতারণার কথা উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন বর্তমান ওই মামলা চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে মিলন চক্রবর্তী’র কাছে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি একবাক্যই বলেন ইউনিয়ন পরিষদে আমি কোনো ধরনের স্বাক্ষর করিনি এবং ইউনিয় পরিষদে যায় নি। সাংবাদিকরা ইউনিয়ন পরিষদের রায়ের কপিতে তার স্বাক্ষর কিভাবে আসছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি জানিনা।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী নূর বেগম বোয়ালখালী থানায় একাধিক অভিযোগ করার পরেও সারা মেলেনি মিলন চক্রবর্তীর। সাংবাদিকরা মিলন চক্রবর্তীর কাছে থানায় ডাকা শর্তে যান নাই কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি ভয়ে যায়নি।
একপর্যায়ে এলাকার মান্যগণ্য ব্যক্তিবর্গরা বলেন মিলন চক্রবর্তী একজন প্রতারক তার বাবা বিক্রি করার পরেও ওই সম্পত্তি মিলন চক্রবর্তী প্রতারামুলকভাবে নামজারি ও বি,এস করে রেখেছে।
এলাকার মান্যগণ্য ব্যক্তির মধ্যে সাবেক মেম্বার বিএনপি নেতা জনাব মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন আমি একাধিক বার তাকে বলেছি আমার কথা কানেও নিচ্ছে না মিলন চক্রবর্তী এবং আমার জানামতে তিনি প্রতারণামূলকভাবে উক্ত সম্পত্তি ভোগ করার পায়তারা চালাচ্ছে।
Leave a Reply