
মোঃ আজম খাঁন, চট্টগ্রাম।
নিজের ঘাম ঝরিয়ে, খালি পকেটে মাঠে-ময়দানে ঘুরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির তথ্য সংগ্রহ করেন সাংবাদিক; অথচ সত্য প্রকাশের পর অনেকের ভাগ্যে জোটে হামলা, মামলা, হুমকি আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।
দেশ-বিদেশের পাঠকের কাছে সত্য তুলে ধরা সেই সংবাদকর্মী দিন শেষে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রামে অসহায়—বিপদে পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব নেবে কে?
দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সংগঠনের ছড়াছড়ি, অথচ বিপদগ্রস্ত সাংবাদিকের পাশে এসব সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
পদ-পদবির লড়াই, সন্ধ্যার আড্ডা আর সালিশ-বিচারেই কি সাংবাদিক সংগঠনের দায়িত্ব শেষ? সাংবাদিকতার নামে চেয়ার দখল ও পরিচয় জাহিরের সংস্কৃতি পেশাটির মর্যাদাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?
উপজেলার সরকারি সভা-সমাবেশে সামনের সারিতে বসার প্রতিযোগিতা থাকলেও পেশাদার সাংবাদিকের নিরাপত্তা, অধিকার ও বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানোর প্রশ্নে নীরবতা কেন?
এসব সংগঠনের বৈধতা, নিবন্ধন, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও প্রকৃত উদ্দেশ্য যাচাইয়ে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি এখন সময়ের দাবি।
মনে রাখতে হবে, প্রেসক্লাব কোনো ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার, পদ-পদবি প্রদর্শন কিংবা স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার নয়; এটি হওয়া উচিত সাংবাদিকদের অধিকার, ঐক্য ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষার প্রতিষ্ঠান।
সাংবাদিকের কলমকে ভয় দেখিয়ে থামানো যায়, কিন্তু সত্যের প্রয়োজনকে মুছে ফেলা যায় না। তাই সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিন এবং নিষ্ক্রিয় সংগঠনগুলোর জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করুন।
সাংবাদিকরা করুণা চান না—চান নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার, সম্মান ও বিপদের দিনে সহকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর নিশ্চয়তা। কারণ সাংবাদিক বিপদে একা থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শুধু একজন সংবাদকর্মী নন, ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো সমাজের সত্য জানার অধিকার।