বোয়ালখালী প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার ৫ নম্বর সারোয়াতলী ইউনিয়নে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ইউনিয়নের সিকদার বাড়ি এলাকায় সচেতন নাগরিক ও মুসল্লিদের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় তারা উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। বিশেষ করে রাতের বেলায় চুরি-ছিনতাই এবং প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে এলাকাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখার দাবিতে সিকদার বাড়ির সচেতন নাগরিক ও ফুটন্তফুল কিশোর সংঘের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি সিকদার বাড়ির বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, কোনো ঘটনায় কেউ স্বীকারোক্তিমূলক অঙ্গীকারনামা দেওয়ার পরও বিষয়টি কীভাবে সংবাদমাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে, তা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন। তারা সাংবাদিকদের ‘জাতির বিবেক, আয়না ও দর্পণ’ উল্লেখ করে সত্যতা যাচাই-বাছাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সারোয়াতলী দরবেশীয়া জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন সিকদার।
বক্তব্য রাখেন সারোয়াতলী ইউনিয়ন আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য আনোয়ার পারভেজ সিকদার, সিকদার বাড়ি ফুটন্তফুল কিশোর সংঘের সভাপতি সাদেকুল ইসলাম সিকদার, সহ-সভাপতি ইশতিয়াক উদ্দিন সিকদার, মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম সিকদার, সারোয়াতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য আবুল হাশেম সিকদার, মসজিদের খতিব মুফতি মাঈনুদ্দিন কাদেরি এবং সাবেক সেনা সদস্য জাহাঙ্গীর আলম সিকদার।
এছাড়া ফুটন্তফুল কিশোর সংঘের সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান নূর সিকদার হেলাল, আরিফুল ইসলাম সিকদার, মিজানুর রহমান সিকদার, সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন সিকদার, কর্মকর্তা মহিউদ্দিন সিকদার দিপু, আব্বাস উদ্দিন সিকদার, আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ফাহিম, রায়হান সিকদার, তৌহিদুল ইসলাম সিকদার, রিয়াজ মাসুম জিসান, আসিফ মাহমুদ, আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী, গিয়াসউদ্দিন সিকদারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও শত শত মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, “আমাদের প্রিয় সারোয়াতলীকে আমরা মাদক ও সন্ত্রাসীদের হাতে ছেড়ে দিতে পারি না।” তারা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত মাদক ব্যবসা ও ডাকাত চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার কথাও বলেন তারা।
সভায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—এলাকার মাদক স্পটগুলো উচ্ছেদ ও কথিত ডাকাত চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, রাতের বেলায় পুলিশি টহল জোরদার এবং স্কুল-কলেজের আশপাশে মাদক বিক্রি বন্ধে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে কার্যকর কমিটি গঠন।
এ বিষয়ে বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পরে এলাকাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।